গ্রিস ও সাইপ্রাসের দাবি করা পূর্ব ভূমধ্যসাগরের এলাকাগুলোতে তুরস্কের আগ্রাসী তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দৃশ্যত অস্বস্তি সৃষ্টি করছে। গত সপ্তাহে এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মরগান অর্টাগাস বলেন, “আমরা তুরস্ককে এই পরিকল্পিত উস্কানি বন্ধ করতে এবং অবিলম্বে গ্রিসের সঙ্গে অনুসন্ধানমূলক আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “জবরদস্তি, হুমকি, ভীতি প্রদর্শন এবং সামরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের উত্তেজনার সমাধান হবে না।”
"আঙ্কারা “সরকার যদি আলোচনায় আগ্রহী হয়, তবে উত্তেজনা প্রশমন ও উস্কানির এই চক্রের অবসান ঘটাতে হবে,” বলেছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস, যার দেশ ইইউ-এর পর্যায়ক্রমিক সভাপতিত্বের দায়িত্বে রয়েছে। মাস, যিনি নাটকীয়ভাবে তুরস্কে তার পরিকল্পিত সফর বাতিল করেছেন, বলেছেন যে দেশটির সাম্প্রতিক পদক্ষেপে তিনি “অত্যন্ত বিস্মিত” হয়েছেন।
আমেরিকান এবং ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়াগুলি বোঝায় তুরস্কের নেতা রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানতুরস্কের নিকটবর্তী একটি সামুদ্রিক ব্লকে ভূতাত্ত্বিক তেল জরিপ ২৭শে অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রশ্নবিদ্ধ এলাকাটি গ্রিসের জলসীমায় অবস্থিত। পূর্ববর্তী এক ঘোষণায় তুরস্ক জানিয়েছিল যে, এই জরিপ বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকৃতপক্ষে, তুরস্ক আন্তর্জাতিক চাপকে আমলে নিচ্ছে এবং আলোচনার টেবিলে ফিরতে প্রস্তুত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু এরদোয়ানের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন।
বিতর্কিত এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ না করলে তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক অবরোধ আরোপের আলোচনা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেড়েছে। কিন্তু গত শুক্রবার ইইউ নেতারা যখন একটি শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছিলেন, তখন বিষয়টি প্রায় উত্থাপনই করা হয়নি, এবং গ্রীস বিষয়টিকে আলোচ্যসূচিতে আনতে ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করতে হয়েছিল।
ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে দৃঢ় ও সংকল্পবদ্ধ ঘোষণা দেওয়া হলেও, নেতারা গ্রিসকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ডিসেম্বরে নির্ধারিত শীর্ষ সম্মেলনের জন্য নিষেধাজ্ঞার আলোচনা স্থগিত রাখাই শ্রেয়। নিষেধাজ্ঞার বিরোধী জার্মানি, স্পেন, ইতালি, মাল্টা ও হাঙ্গেরি এবং ফ্রান্সের মধ্যকার এই বিভাজন এরদোয়ানের জন্য সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। এই পাঁচটি দেশ আশঙ্কা করছে যে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে এরদোয়ান তাদের দিকে শরণার্থীদের একটি নতুন ঢেউ পাঠাতে পারেন।
এরদোয়ানের কথার সমর্থনে তুরস্কের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নেই।
উৎস: haarez.com





